ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ সহ

ইফতারের দোয়া পড়া হয়ে থাকে রমজান মাসের রোজা রাখার পর ইফতার করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে। আমরা অনেকেই রমজান মাসে সারা মাস জুড়ে রোজা করি ঠিকই কিন্তু দুঃখের বিষয় হল ইফতারের দোয়া পড়তে জানিনা। কিন্তু আমাদের জেনে রাখা উচিত যে ইফতার করার সময় অবশ্যই আমাদের ইফতারের দোয়া পড়া আবশ্যক।

ইফতারের দোয়া

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মানুষের প্রতিদিনের প্রায় প্রতিটি কাজ করার পূর্বেই কোন না কোন দোয়া পড়তে হয়। যেমন ভাত খাওয়ার দোয়া অথবা পানি খাওয়ার দোয়া এরকম অনেক দোয়া রয়েছে। সেরকমটাই ইফতারের দোয়া পড়া হয় ইফতার করার আগে। অন্যান্য ক্ষেত্রে দোয়া পড়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ইফতারের দোয়া পড়া ও ঠিক একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে ইফতারের দোয়া পড়ে ইফতার করলে আল্লাহ তায়ালা রোজা রাখার সঠিক পুরস্কার আমাদের দান করবেন।

  • সেহরী ও ইফতারের সময়সূচি ২০২২

ইফতারের দোয়া পড়া কি জরুরী?

অবশ্যই সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় দোয়া পড়ে ইফতার করা অত্যন্ত জরুরি এবং আবশ্যক একটি কাজ। নামাজ পড়ার আগে যেমন নামাজের নিয়ত করতে হয় তেমনি ভাবে এটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি যদি ইফতারের দোয়া না জেনে থাকেন তাহলে অবশ্যই সেটা মুখস্থ করে নেবেন। অন্যথায় এমনও হতে পারে যে সারাদিন কষ্ট করে রোজা রাখলেন সারা মাস কিন্তু ছোটখাটো কিছু ভুলের জন্য আপনার একটা রোজাও কবুল হলো না। তাই বুঝতেই পারছেন যে এটা কত জরুরী একটা ব্যাপার।

ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ সহ

ইফতারের দোয়া আরবিতে

اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ وَ اَفْطَرْتُ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِيْمِيْن

ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

ইফতারের দোয়া না জানলে করণীয় কি

প্রথমত আমাদের সকলেরই এই দোয়া মুখস্থ করা উচিত। কারণ এটি আহামরি এমন কোন বড় দোয়া নয় যে আমাদের মুখস্থ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেউ যদি দুই থেকে তিন দিন সঠিকভাবে এই দোয়া মুখস্থ করার চেষ্টা করে তাহলে অনায়াসে আত্মস্থ করতে পারবে। তার পরেও যদি যে কোন সমস্যা বা বার্ধক্যজনিত কারণে ইফতারের দোয়া মুখস্থ করতে না পারেন তবে সে ক্ষেত্রে ইফতার করার পূর্বে অবশ্যই বাংলায় নিয়ত করে তারপরেই ইফতার করতে হবে। ইফতারের দোয়া না জানলে বাংলায় যে কথা বলে ইফতার করবেন সেটি হল

“হে আল্লাহ সারাদিন তোমার হুকুম অনুযায়ী রোজা রাখার পর রোজা ভঙ্গের উদ্দেশ্যে তোমার নামে ইফতার করতেছি”

আপনি যদি ইফতারের দোয়া নাও জানেন তবুও সমস্যা নেই যদি এইটুকু কথা বলে হালাল রুজি অথবা পানি দিয়ে ইফতার করে ফেলেন। তবে একজন রোজাদারের জন্য সবচেয়ে উত্তম কাজ হল দোয়া পড়ে তারপরে ইফতার করা। 

ইফতারের দোয়ার ফজিলত

ইফতারের দোয়া

ইসলাম ধর্মে বলা হয়ে থাকে যে কোন ব্যক্তি যদি একটি আরবি হরফ উচ্চারণ করে তাহলে তার বিনিময়ে দশটি সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হয়ে থাকে। তাই বোঝাই যাচ্ছে যে ইফতারের দোয়ায় অনেক গুলো আরবি হরফ থাকে সেগুলো উচ্চারণ করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অনেক সওয়াব এর অধিকারী হতে পারেন। তাছাড়া বলা হয়ে থাকে যে রমজান মাসে যে কাজের জন্য দশটি সওয়াব বরাদ্দ থাকে সেই কাজের জন্য রমজানের ফজিলত এর কারনে সেটি প্রায় বহুগুণে বর্ধিত করা হয়। অর্থাৎ উদাহরণস্বরূপ আপনি অন্য মাসে যদি দশ টাকা দান করেন তাহলে যে সওয়াব পাবেন রমজান মাসে ১০ টাকা দান করলে তার থেকে প্রায় ৭০ গুন সওয়াব বেশি পাবেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন যে ইফতারের দোয়া আরবিতে পরে ইফতার করা কতটা ফজিলত এর কাজ।

ইফতারের দোয়া মুখস্থ করার কৌশল

আমরা যারা আরবি ভাষা পড়তে জানি না তাদের জন্য আসলে আরবিতে যে কোন দোয়া মুখস্থ করা একটু সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সে ক্ষেত্রে আমরা বাজার থেকে কোন নামাজ শিক্ষা কিনে নিয়ে সেখান থেকে ইফতারের দোয়া মুখস্থ করতে পারি। কারণ নামাজ শিক্ষা গুলোতে এসকল আরবি দোয়া বাংলা ভাষায় লেখা থাকে যা একজন মানুষের জন্য সহজে পড়া মুখস্থ করে ফেলা সম্ভব। তাছাড়া শুরুর দিকে এই দোয়া হয়তো একদিনে বা দুই দিনে মুখস্থ করলেও কয়দিন পর সেটি ভুলে যাবার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। তাই সারা জীবনে যেন কখনো এই দোয়া না ভুলি সে কারণে কয়েকদিন পর পর এটি মনে আছে কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যদি দেখেন যে দোয়াটি আপনি বারবার ভুলে যাচ্ছেন তাহলে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ বার এই দোয়া পড়ে আত্মস্থ করে নেবেন। একটা সময়ে গিয়ে দেখবেন যে আপনি কয়েক মাস পরেও এই দোয়া হুবহু মুখস্থ বলে ফেলতে পারছেন। 

রমজান মাসের ফজিলত যেন আমরা সবাই পাই সেজন্য আমাদের বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। তার পাশাপাশি রমজানের রোজা গুলো যেন আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিকভাবে পালন করার মত তৌফিক দান করেন সেজন্য আমরা নামায পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করব। সর্বদা চেষ্টা করব হালাল রিজিক গ্রহণ করার। কারণ যদি আপনার গৃহীত খাবার হালাল না হয় তাহলে আপনি সারাজীবন নামাজ পড়ে রোজা করে অথবা হজ করে পার পাবেন না। শরীরে যদি এক শস্য দানা পরিমাণ হারাম রিজিক প্রবেশ করে তাহলে তওবার না করা পর্যন্ত সেই ব্যক্তির কোন ইবাদত কবুল হবে না। তাই আসুন আমরা সকলে মিলে আল্লাহর কাছে তওবা করি এবং হালাল রিজিক গ্রহণ করি। এতে করে আমরা আল্লাহর এবাদত করতে অনেক বেশি আগ্রহ পাব এবং মনের ভেতরে একটা ভালোলাগার সৃষ্টি হবে। সেইসাথে আল্লাহ তায়ালা আমাদের ইবাদত কবুল করে নেবেন। 

Mitu Khatun
Mitu Khatunhttps://allgovtjobcircular.com/
আমি মিতু। সবসময় লিখালিখি করতে ভালোবাসি। আর ভালোবাসি স্বাধীনভাবে বেচে থাকতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles

x