পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান ২০২২ (পদ্মা সেতু a to z)

পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান অর্জনে আমাদের এই লেখা টি আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে। পদ্মা সেতু হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতু। সম্প্রতি সময়ে এটি পৃথিবীর বিভিন্ন রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছে যা বাংলাদেশের জন্য গর্বের একটা ব্যাপার। তাই পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান ২০২২ মূলক প্রশ্ন গুলো চাকরির পরীক্ষা সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় আসতে পারে। সুতরাং চলুন দেরী না করে বিস্তারিত জেনে নেই পদ্মা সেতু a to z।

পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান

বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতু। কিন্তু পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পরপরই সেই রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে জায়গা দখল করে নেয় এই পদ্মা সেতু। শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং বিশ্বের বিভিন্ন রেকর্ড অর্জন করার মধ্য দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে পদ্মা সেতু। 

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের জন্য এই পদ্মা সেতু আশীর্বাদ হিসেবে বানানো হয়েছে। পূর্বে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদেরকে যাতায়াত করতে হতো লঞ্চে করে। যা ছিল অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ একটা পথ। কিন্তু পদ্মা সেতুর স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেই কষ্ট লাঘব করে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টার পথ এখন ছয় মিনিটে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হবে।

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত?

বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতু পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। কিন্তু রাস্তাসহ দুই পাশের দৈর্ঘ্য একত্রিত করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় প্রায় ৯ কিলোমিটার. পদ্মা ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের মধ্যে ৪১ টি স্প্যান বসানো হয়েছে যাদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ৬.১৫০ মিটার এবং ১৮.১০ মিটার। 

পদ্মা সেতু কোন জেলায় অবস্থিত

বাংলাদেশের তিনটি জেলাকে একসাথে সংযুক্ত করেছে এই পদ্মা সেতু। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এর সাথে শরীয়তপুর এবং মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়ে দক্ষিণ পশ্চিম অংশে সাথে উত্তর পূর্ব অংশের যাতায়াতের ব্যবস্থা সুগম করা হয়েছে। সেতুর নিচের অংশে রয়েছে রেলপথ এবং ওপরের অংশেও মূল সেতু। 

পদ্মা সেতু বিশ্বের কততম সেতু

বিশ্বের বিভিন্ন সেতুর মধ্যে আমাদের দেশের পদ্মা সেতুর অবস্থান ১২২ তম। তবে এটি নির্মিত হয়েছে পৃথিবীর দ্বিতীয় খরস্রোতা নদীর ওপর দিয়ে। 

পদ্মা সেতুর খরচ কত

বাংলাদেশের অন্যতম যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে। যা তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এই টাকা সরকারের বরাদ্দ ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ঋণের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। যা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সেতু কর্তৃপক্ষের ঋণচুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩৫ বছরে সুদ সহ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় দাড়াবে।

পদ্মা সেতু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

পদ্মা সেতুর প্রকল্পের নাম:পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প।
পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য:৬.১৫ কিলোমিট।
পদ্মা সেতুর প্রস্থ:৭২ ফুট।
পদ্মা সেতুর স্প্যান সংখ্যা:৪১ লেন।
পদ্মা সেতুর রেল লাইনের অবস্থান:পদ্মা সেতুর রেল লাইনের অবস্থান নিচতলায়।
পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট:৩.১৮ কিলোমিট।
পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক:দুই প্রান্তে প্রায় ১৪ কিলোমিটার।
পদ্মা সেতুর প্রকল্প নদী শাসন:দুই পারে প্রায় ১২ কিলোমিটার।
পদ্মা সেতুর প্রকল্প ব্যয়:৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা।
পদ্মা সেতুর প্রকল্পের জনবল:প্রায় ৪ হাজার।
পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট পিলার:৮১ টি।
পানির স্তর থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা:৬০ ফুট।
পদ্মা সেতুর পাইলিং গভীরতা:৩৮৩ ফুট।
পদ্মা সেতুর প্রতিটি পিলারের জন্য পাইলিং:৬ টি।
পদ্মা সেতুর মোট পাইলিং সংখ্যা:২৬৪ টি।
পদ্মা সেতুতে যা যা থাকবে:বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং অপটিক্যাল ফাইবার লাইন।
পদ্মা সেতুর ধরন:দ্বিতল বিশিষ্ট কংক্রিট এবং স্টিল দ্বারা নির্মিত এই সেতু।
পদ্মা সেতুর পিলার কয়টি:৪২ টি।
পদ্মা সেতুর প্রকল্পের চুক্তিবদ্ধ কম্পানি:চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড।
পদ্মা সেতুর নকশা:এইসিওএমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়। আর তারাই হচ্ছে পদ্মা সেতুর নকশা পরামর্শদাতা।
পদ্মা সেতুর প্যানেলের সভাপতির নাম:অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী।
পদ্মা সেতুর স্প্যান বিশেষজ্ঞ দল সদস্য সংখ্যা:১১ জন।
পদ্মা সেতুর কাজ:মূল সেতু, নদী শাসন, জাজিরা সংযোগকারী সড়ক, টোল প্লাজা.
পদ্মা সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক চুক্তি:১৭ই জুন, ২০১৪ইং সালে বাংলাদেশ সরকার এবং চিনা চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়।

এই ছিল পদ্মা সেতু সম্পর্কে বিস্তারিত সাধারন কিছু ধারনা। আশা করছি আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন এবং পদ্মা সেতু সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এছাড়াও পদ্মা সেতু সম্পর্কে আরও কোন তথ্য বিস্তারিত জানতে চাইলে আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন।

Ruhul
Ruhul

আমি শিক্ষা নিয়ে কাজ করি। লিখালিখি করতে ভালোবাসি। সেই সাথে ভালোবাসি মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতে। ব্লগিং আমার প্যাশন এবং ভালো লাগে।

Articles: 87

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *